মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধে হরিণাকুণ্ডু

১৯৭১ সলের রক্তে ঝরা দিনগুলোতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে হানাদার মুক্ত হয়েছিল ঝিনাইদহের বিভিন্ন অঞ্চল। তারই ধারাবাহিকতায় হরিণাকুণ্ডু এলাকা হানাদার মুক্ত হয়েছিল ১৪ ডিসেম্বর। তারই বিবরণ নিম্নরূপ :

 

ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশাল বাহিনী “আব্দার বাহিনী” ছাড়াও হরিণাকুণ্ডুতে ছোট ছোট মুক্তিবাহিনী ছিল। যেমন : ‘তৈয়ব বাহিনী’, ‘কুসুম বাহিনী’। এ বাহিনীগুলো সব সময় আব্দার বাহিনীকে আবর্তন করত। এ গুলো গেরিলা কায়দায় পাকিস্তানীদে বিব্রত করত। হরিণাকুণ্ডুতে ২টি বড় সম্মুখ যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয়েছিল। ১টি শিতলী-পায়রাডাঙ্গা যুদ্ধ, অন্যটি হরিণাকুণ্ডু থানাতে যুদ্ধ।

 

শিতলী-পায়রাডাঙ্গা যুদ্ধ : আড়পাড়া সংকরদিয়া যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী তখন পায়রাডাঙ্গা গ্রামে অবস্থান করছিল। ১৩ নভেম্বর, ১৯৭১ সাল। সকাল বেলা খাবারের জন্য মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রস্তুত। হঠাৎ খবর আসল হরিণাকুণ্ডু থানা হতে কিছু রাকাজার, আলবদর, আলশামসের একটি দল শিতলী গ্রাম হয়ে পায়রাডাঙ্গার দিকে আসছে। খবরের সাথে সাথে  মুক্তিযোদ্ধাগণ সবাই প্রস্তুত হয়ে পায়রাডাঙ্গা গ্রামের পশ্চিম দিকে চলে এলেন। দেখা যায় রাজাকার বাহিনী পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মাঝামাঝি ওয়াপদার ক্যানেলের উপর অবস্থান নিয়েছে। ওরা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে গোলাবর্ষন শুরু করে। মু্ক্তিযোদ্ধাগণও একযোগে এল.এম.জি, এস.এল.আর, ৩০৩ এর গুলি বর্ষণ শুরু করে। মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যেই রাজাকার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। গ্রামের মানুষ সবাই  মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাজ করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানুষের সহায়তায় ওদের পিছু ধাওয়া করে ২ জন রাজাকারকে আটক করে।

 

হরিণাকুণ্ডু থানা আক্রমণ ও দখল : ১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। হরিণাকুণ্ডু থানা আক্রমণ করতে হবে এরকম পরিকল্পনা করা হয়। শ্রীপুর গ্রামে জানু মিয়ার বাড়ীতে ৫ জন সেকশন কমান্ডারের সমন্বয়ে  সভা হয়।  ঐ সভায় হাফিজুর রহমান জানু মিয়াকে থানা রেকী করার দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৩ তারিখে রেকী শেষে রিপোর্ট দিলে থানা আক্রমনের মুল পরিকল্পনা চলে আসে।  ১৪ তারিখে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হরিণাকুণ্ডু পাইলট হাইস্কুলের মাঠে উপস্থিত হয়ে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে ১দল পার্বতীপুর বাজারে, ১দল স্কুলের পূর্বপাশে ও আর ১ দল দক্ষিণ দিকে ওয়াপদা ক্যানেলে অবস্থান নেয়। রাত ১২ টার পর মুক্তিযোদ্ধাগণ সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। থানার ৫০ গজের মধ্যে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ সবাই একযোগে গুলি বর্ষণ শুরু করেন। পুলিশ বাহিনীও পাল্টা গুলি শুরু করে। একটানা ৩ ঘন্টা যুদ্ধের পর একসময় পুলিশের পক্ষ থেকে ফায়ার বন্ধু হয়ে যায়। এরপর থানার ভিতর প্রবেশ করে শুধু অস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকল অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। তারপর ১৫ ডিসেম্বর ভোর বেলা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা হলো। হরিণাকুণ্ডু হানাদার ও রাজাকার মুক্ত হলো। তারপর ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ সারাদেশ হানাদার মুক্ত হলো। সেই উল্লাসের সাথে হরিণাকুণ্ডুবাসীও মুক্তির উল্লাসে মেতে উঠল।